মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলের উপর জোর দিচ্ছে চীন

মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল এখন দৃশ্যত আরও আগ্রাসী এবং কৌশলগতভাবে সুসংগঠিত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সামরিক কুচকাওয়াজে চীন যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে, তা এই কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করে। আজকের প্রদর্শনীতে আমরা দেখতে পেয়েছি DF-5C, DF-26D এবং DF-61—যার মধ্যে DF-61 একটি কঠিন জ্বালানি-চালিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চীনের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে সাম্প্রতিকতম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীনের প্রতিরক্ষা কৌশলে বিপুল গুরুত্ব বহন করে।

এছাড়াও, হাইপারসনিক ওয়ারহেডের বিভিন্ন উন্নত সংস্করণও এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে বাস্তবায়নের পথে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রদর্শন কেবল বাহ্যিক শক্তির প্রদর্শন নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর কৌশলগত উদ্দেশ্য: মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

প্যাসিফিক ফোরামের সহকারী ফেলো আলেকজান্ডার নীল বলেন, বেইজিং বর্তমানে তার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। চীন বিশ্বাস করে, এই অস্ত্রগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শ্রেষ্ঠত্বের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। যদিও চীনের বিমানবাহী রণতরী এবং ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তুলনামূলকভাবে তারা এখনো মার্কিন নৌবাহিনীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

তবে, পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে এই স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর বাস্তব কার্যকারিতা ও দুর্বলতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অনেকেই মনে করছেন, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই বাহনগুলো “অবাধে বসে থাকা লক্ষ্যবস্তু” হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে চীন তার মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলকে বহুমুখী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নীলের মতে, বেইজিং একটি কার্যকর এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যেখানে দ্বিতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর সক্ষমতাও থাকবে। এই কারণেই চীন তার ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্মের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *