ভারতীয় ফ্যাশন বাজারে পোশাক ঘাটতি
দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের সুপরিচিত ফ্যাশন ব্যবসায়ীরা মজুদের ঘাটতিতে পড়েছে। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, এইচএন্ডএম, জুডিও ও লাইফস্টাইলসহ একাধিক ব্র্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমদানি নিষেধাজ্ঞার সরকারি সিদ্ধান্ত
১৭ মে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বর্তমানে কেবল কলকাতা ও নহাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে সীমিত আমদানি অনুমোদিত, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বাধা তৈরি করছে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব ও বিকল্প উৎপাদন
এই পরিবর্তনের ফলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ বিলম্ব হচ্ছে সস্তা পণ্যের সরবরাহে। ফলে লাইফস্টাইল, রিলায়েন্স ও আদিত্য বিড়লা নিজেদের কিছু পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া ও বাজারে প্রভাব
লাইফস্টাইল ইন্টারন্যাশনালের সিইও দেবরাজন আইয়ার বলেছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ালেও বাংলাদেশ থেকে আসা কিছু পণ্যে বিলম্ব হচ্ছে। ছোট ব্যবসা ও ধূসর বাজারে সক্রিয় ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
পরিবহন ব্যয় ও বাজার খরচ বৃদ্ধি
সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশি পোশাক আমদানির খরচ ৩%–৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির উপদেষ্টা রাহুল মেহতা মনে করেন, এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।
আমদানির প্রবণতা ও পরিসংখ্যান
টিটি ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি সঞ্জয় জৈন বলেন, বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির হার প্রতি বছর প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাংশ কমেছে। তথাপি ২০২4 সালের জানুয়ারি–জুনে ভারত বাংলাদেশ থেকে ২৫৪.৪৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক কিনেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৫% বেশি।

