বিবৃতি নাকি সতর্কীকরণ?? চীনের শি জিনপিং বলেছেন যে “চীন কাউকে ভয় পায় না”।

যেদিন চীন তার সর্বশেষ সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করছিল, সেদিন দেশটির নেতার বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে—চীন কাউকে ভয় পায় না এবং সেই আত্মবিশ্বাসই তার আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন।

তিয়েনআনমেন গেটের উপরে দাঁড়িয়ে, শি জিনপিং বলেন, আজকের বিশ্ব “শান্তি এবং যুদ্ধ, সংলাপ এবং সংঘর্ষের মধ্যে একটি কঠিন পছন্দ” এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা না করলেও তার কণ্ঠে ছিল একরকম শক্তি-নির্ভর শান্তির বার্তা।

শি আরও ঘোষণা করেন, তার মহান জাতি এখন আর ভীত নয়—চীন কাউকে ভয় পায় না—এবং তা প্রমাণ করতে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে তুলে ধরা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এদিন প্রকাশ্যে আসে চীনের নতুন সাবমেরিন ড্রোন, লেজার অস্ত্র, এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত সামরিক সরঞ্জাম।

এই অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার কিম জং-উন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ আরও কিছু বিশ্বনেতার উপস্থিতি পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, এটি হতে পারে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের প্রতি একধরনের সম্মান প্রদর্শনের প্রচেষ্টা—যা আড়াল করে রাখতে চায় ভেতরের আসল উদ্দেশ্য।

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। তিয়ানআনমেন স্কয়ারে আয়োজিত এ মহড়া ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। অন্যদিকে, এতে চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে বিশ্বকে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।


শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বকে বার্তা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই মহড়ায় চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে শক্তির ঐক্য প্রদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক প্রদর্শনী নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে কৌশলগত বার্তাও বহন করে।

আরও পড়ুন: শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

সামরিক কুচকাওয়াজে শক্তি প্রদর্শন

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ ছিল চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রদর্শনী। সেখানে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, স্টেলথ ফাইটার জেট, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সব অস্ত্র উন্মোচন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উদ্দেশ্যে কড়া সতর্ক বার্তা দিয়েছে।


কিম জং উনের বিরল উপস্থিতি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন খুব কম বিদেশ সফর করেন। তবে এইবার শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে তার উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। কুচকাওয়াজে কিমের কন্যা কিম জু-এ-ও উপস্থিত ছিলেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়।


বৈশ্বিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে নতুন এক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান