কুচকাওয়াজে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল, যদিও তত্পরতা নিয়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা এখন চীনের সামরিক শক্তির মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কুচকাওয়াজে, চীন যে গতিতে এবং পরিমাণে উন্নত অস্ত্র প্রদর্শন করেছে, তা নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্লেষক মাইকেল রাস্কা বলেন, দশ বছর আগেও চীনের প্রদর্শিত প্রযুক্তির বেশিরভাগই ছিল মার্কিন উন্নত সরঞ্জামের প্রাথমিক অনুলিপি। তবে আজকের প্রদর্শনীতে যেসব অস্ত্র দেখানো হয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন—সেগুলো প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও উন্নত, জটিল ও বৈচিত্র্যময়।

চীনের দ্রুত অস্ত্র উন্নয়নের পেছনে আছে একটি শীর্ষ-নিচ সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিপুল অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্পদ। রাস্কা বলেন, এই কাঠামো চীনের পক্ষে বড় পরিসরে এবং অল্প সময়ে জটিল অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব করেছে, যা অনেক পশ্চিমা দেশের পক্ষে কঠিন।

তবে সমস্যা হলো, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা একে অপরের পরিপূরক নয়। সামরিক বাহিনীর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বিশাল ভৌগোলিক আকার এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার অভাব—এই তিনটি বিষয়ই চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রশ্ন থেকেই যায়: তারা কি এই উন্নত অস্ত্রগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা ও সংহত করতে পারবে?

রাস্কা আরও বলেন, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নয়, বরং কৌশলগত ও পরিচালনাগতও। তিনি মন্তব্য করেন, “চীন নিঃসন্দেহে অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি ও প্রদর্শন করতে পারছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা এগুলোর ব্যবস্থাপনায় কতটা দক্ষ? শুধু প্রদর্শন নয়, সফল তৎপরতা নিশ্চিত করাই হচ্ছে প্রকৃত সামরিক সক্ষমতার সূচক।”