শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। তিয়ানআনমেন স্কয়ারে আয়োজিত এ মহড়া ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। অন্যদিকে, এতে চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে বিশ্বকে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।


শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বকে বার্তা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই মহড়ায় চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে শক্তির ঐক্য প্রদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক প্রদর্শনী নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে কৌশলগত বার্তাও বহন করে।

আরও পড়ুন: শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

সামরিক কুচকাওয়াজে শক্তি প্রদর্শন

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ ছিল চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রদর্শনী। সেখানে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, স্টেলথ ফাইটার জেট, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সব অস্ত্র উন্মোচন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উদ্দেশ্যে কড়া সতর্ক বার্তা দিয়েছে।


কিম জং উনের বিরল উপস্থিতি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন খুব কম বিদেশ সফর করেন। তবে এইবার শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে তার উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। কুচকাওয়াজে কিমের কন্যা কিম জু-এ-ও উপস্থিত ছিলেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়।


বৈশ্বিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে নতুন এক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান

আবার মুখোমুখি বন্ধুত্বের গল্প, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি বদলে যাচ্ছে

পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিক

ইসলামাবাদ সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগস্ট ২৩-এ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সহ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার ঢাকায় পৌঁছান। এটি ১৩ বছরে প্রথম উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি কর্মকর্তার সফর। তিনি সফরকে “ঐতিহাসিক” এবং দুই দেশের পুনরুজ্জীবিত অংশীদারিত্বের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

দার বলেন,

“কারাচি থেকে চট্টগ্রাম, কুয়েতা থেকে রাজশাহী, পেশাওয়ার থেকে সিলেট এবং লাহোর থেকে ঢাকা, আমাদের যুবকরা একসাথে কাজ করবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং ভাগ্য ভাগাভাগি করবে।”

এটি স্পষ্ট করে যে পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে।


পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কূটনৈতিক বৈঠক

কূটনৈতিক ও সামরিক উদ্যোগ

গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক বিনিময় দ্রুত বেড়েছে। লে. জেনারেল এস এম কামর-উল-হাসান এবং নৌবাহিনী প্রধানের সফর, পাকিস্তানি পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকায় যাত্রা, এবং অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মোহসিন নাকভীর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করেছে।

তাছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ দেলওয়ার হোসাইন বলেন,

“পাকিস্তানের এই তাড়াহুড়ো কৌশলগত। তারা দেখতে পাচ্ছে যে হাশিনা সরকারের পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ এসেছে।”

ফলে, পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ত্বরান্বিত।


অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে ৬% প্রবৃদ্ধি করেছে, আর পাকিস্তান ২.৫%। দুই দেশ যদি বাণিজ্য পুনর্জীবিত করে, তারা উভয়েই লাভবান হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: পাকিস্তান থেকে কটন, টেক্সটাইল, চাল, সিমেন্ট, ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, এবং বাংলাদেশ থেকে জুট, রাসায়নিক, হাইড্রোজেন পারক্সাইড ও তামাক পণ্য আমদানি করা যেতে পারে।

এছাড়া, দুই দেশের combined population ৪৩০ মিলিয়ন, যা পশ্চিম ইউরোপের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে বৃহৎ বাজার হিসেবে সহযোগিতা আরও লাভজনক।


ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এখনও দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। পাকিস্তান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেনি। এছাড়া, পূর্ব-পাকিস্তান থেকে আগত উর্দুভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার ও পূর্ব-পাকিস্তানের সম্পদের বিতরণও আলোচনার বিষয়।

তবে, চৌধুরি, পাকিস্তানের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব, বলেন,

“উভয় দেশের জনগণও ১৯৭১ সালের ঘটনাগুলো নিয়ে সমানভাবে ব্যথিত। কিন্তু এখন সময় এসেছে এগিয়ে যাওয়ার।”

অতএব, দুই দেশ অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্পর্ককে পুনঃসৃজন করতে চাইছে।

সোর্স:আলজাজিরা



আরও পড়ুন: আবার মুখোমুখি বন্ধুত্বের গল্প, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি বদলে যাচ্ছে

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনীতি

দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক রাতারাতি কীভাবে বদলে গেল