রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সহযোগিতা জোরদার হয়েছে – কিম

কিম পুতিনকে বলেন যে ২০২৪ সালের জুনের চুক্তির অধীনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে, যেখানে তারা “আগ্রাসন” এর বিরুদ্ধে পারস্পরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

গত বছর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা। সেই সময়ে, কিম এই চুক্তিকে “এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে।

আজকের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত হওয়া উচিত। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা এখন শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও প্রসারিত হওয়ার পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা যে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, তা এই সাম্প্রতিক বৈঠক এবং নেতাদের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।

ভোগে নতুন সম্পাদকীয় প্রধান ক্লোয়ি মাল: আনা উইনটুরের উত্তরসূরি

ভোগে নতুন সম্পাদকীয় প্রধান ক্লোয়ি মাল

ভোগে নতুন সম্পাদকীয় প্রধান হিসেবে ক্লোয়ি মালকে দায়িত্ব নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে মার্কিন ভোগকে নেতৃত্ব দেওয়া আনা উইনটুর পদ ছাড়ার পর ক্লোয়ি মাল মার্কিন ভোগের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।

ক্লোয়ি মালের অভিজ্ঞতা ও কাজ

৩৯ বছর বয়সী ক্লোয়ি মাল ভোগের সঙ্গে দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত। তিনি – Vogue.com এর সম্পাদক এবং জনপ্রিয় পডকাস্ট The Run-Through-এর সহ-সঞ্চালক।

ক্লোয়ি ভোগে যোগ দেওয়ার আগে ফ্রিল্যান্স কাজ ও New York Observer-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে নাওমি বাইডেনের বিয়ের ফটোশুট এবং লরেন সানচেজের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার।

আনা উইনটুরের উত্তরাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব

৭৫ বছর বয়সী আনা উইনটুর মার্কিন সম্পাদকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি ভোগের গ্লোবাল এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর এবং কনডে ন্যাস্টের চিফ কনটেন্ট অফিসার হিসেবে থাকবেন।

উইনটুর ১৯৮৮ সাল থেকে ভোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি মেট গালাকে একটি স্থানীয় ফান্ডরেইজার থেকে বিশ্বজুড়ে আলোচিত সাংস্কৃতিক ইভেন্টে রূপান্তরিত করেছেন।

ফ্যাশন জগতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

ভোগে নতুন সম্পাদকীয় প্রধান ক্লোয়ি মাল মার্কিন ভোগকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল ফোকাসের দিকে এগোতে সাহায্য করবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বে ভোগের কনটেন্ট এবং ডিজাইন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাবে, যা তরুণ পাঠক এবং ডিজিটাল অডিয়েন্সের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

এই পরিবর্তন শুধুমাত্র মার্কিন ভোগের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সোর্স: রয়টার্স

Read more: ভোগে নতুন সম্পাদকীয় প্রধান ক্লোয়ি মাল: আনা উইনটুরের উত্তরসূরি

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংবাদ

Abdur Rahman Al-Amin
Abdur Rahman Al Amin Avatar

কিম পুতিনকে বললেন রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য’

রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য — এই বার্তাই তুলে ধরেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, কিম ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং সম্মুখ সারিতে রাশিয়ান সেনাদের পাশে দাঁড়ানোয় উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বিশেষভাবে, তিনি রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলের “মুক্তি” তুলে ধরেন, যা দুই দেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে কিম বলেন, রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য, এবং তার দেশ এই দায়িত্ব আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে পালন করছে।

এই মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয় — এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ, এবং সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও প্রসারিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিমের এই বক্তব্য মস্কো-পিয়ংইয়াং জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করছে। এটি বোঝাচ্ছে যে, শুধু প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও দুই দেশ একে অপরকে কৌশলগতভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

পুতিন-কিম বৈঠক শুরু

পুতিন-কিম বৈঠক ঘিরে শুরুতেই উঠে এসেছে মতভেদের ইঙ্গিত, যা রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সম্পর্ককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতার মন্তব্যে কিছু ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে জানিয়েছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল “মুক্ত” করতে সাহায্য করেছে এবং সেই অঞ্চলে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

পুতিন বলেছেন, এই অংশগ্রহণ ছিল “নব্য-নাৎসিবাদ”-এর বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের অংশ। কিম জং উন যদিও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তবে তাস জানায় যে তিনি রাশিয়ার ভূমিকাকে ঘিরে কিছু মন্তব্যে দ্ব্যর্থতা প্রকাশ করেছেন, যা এই উচ্চ পর্যায়ের পুতিন-কিম বৈঠককে ঘিরে নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে, তবে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলের উপর জোর দিচ্ছে চীন

মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল এখন দৃশ্যত আরও আগ্রাসী এবং কৌশলগতভাবে সুসংগঠিত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সামরিক কুচকাওয়াজে চীন যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে, তা এই কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করে। আজকের প্রদর্শনীতে আমরা দেখতে পেয়েছি DF-5C, DF-26D এবং DF-61—যার মধ্যে DF-61 একটি কঠিন জ্বালানি-চালিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চীনের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে সাম্প্রতিকতম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীনের প্রতিরক্ষা কৌশলে বিপুল গুরুত্ব বহন করে।

এছাড়াও, হাইপারসনিক ওয়ারহেডের বিভিন্ন উন্নত সংস্করণও এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে বাস্তবায়নের পথে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রদর্শন কেবল বাহ্যিক শক্তির প্রদর্শন নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর কৌশলগত উদ্দেশ্য: মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

প্যাসিফিক ফোরামের সহকারী ফেলো আলেকজান্ডার নীল বলেন, বেইজিং বর্তমানে তার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। চীন বিশ্বাস করে, এই অস্ত্রগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ শ্রেষ্ঠত্বের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। যদিও চীনের বিমানবাহী রণতরী এবং ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তুলনামূলকভাবে তারা এখনো মার্কিন নৌবাহিনীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

তবে, পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে এই স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর বাস্তব কার্যকারিতা ও দুর্বলতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অনেকেই মনে করছেন, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই বাহনগুলো “অবাধে বসে থাকা লক্ষ্যবস্তু” হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে চীন তার মার্কিন নৌ-অধিকার মোকাবেলায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলকে বহুমুখী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নীলের মতে, বেইজিং একটি কার্যকর এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যেখানে দ্বিতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর সক্ষমতাও থাকবে। এই কারণেই চীন তার ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্মের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।

কুচকাওয়াজে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল, যদিও তত্পরতা নিয়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা এখন চীনের সামরিক শক্তির মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কুচকাওয়াজে, চীন যে গতিতে এবং পরিমাণে উন্নত অস্ত্র প্রদর্শন করেছে, তা নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্লেষক মাইকেল রাস্কা বলেন, দশ বছর আগেও চীনের প্রদর্শিত প্রযুক্তির বেশিরভাগই ছিল মার্কিন উন্নত সরঞ্জামের প্রাথমিক অনুলিপি। তবে আজকের প্রদর্শনীতে যেসব অস্ত্র দেখানো হয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন—সেগুলো প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও উন্নত, জটিল ও বৈচিত্র্যময়।

চীনের দ্রুত অস্ত্র উন্নয়নের পেছনে আছে একটি শীর্ষ-নিচ সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিপুল অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্পদ। রাস্কা বলেন, এই কাঠামো চীনের পক্ষে বড় পরিসরে এবং অল্প সময়ে জটিল অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব করেছে, যা অনেক পশ্চিমা দেশের পক্ষে কঠিন।

তবে সমস্যা হলো, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা একে অপরের পরিপূরক নয়। সামরিক বাহিনীর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বিশাল ভৌগোলিক আকার এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার অভাব—এই তিনটি বিষয়ই চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রশ্ন থেকেই যায়: তারা কি এই উন্নত অস্ত্রগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা ও সংহত করতে পারবে?

রাস্কা আরও বলেন, কুচকাওয়াজে অস্ত্র প্রদর্শন এবং তত্পরতার সমস্যা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নয়, বরং কৌশলগত ও পরিচালনাগতও। তিনি মন্তব্য করেন, “চীন নিঃসন্দেহে অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি ও প্রদর্শন করতে পারছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা এগুলোর ব্যবস্থাপনায় কতটা দক্ষ? শুধু প্রদর্শন নয়, সফল তৎপরতা নিশ্চিত করাই হচ্ছে প্রকৃত সামরিক সক্ষমতার সূচক।”

চীন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য অবিস্মরণীয় চিত্রাবলী

চীন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল সেই দৃশ্য দিয়ে, যেখানে শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দৃঢ় করমর্দন করেন এবং পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এই কূটনৈতিক নাটকীয়তা শুরু হয় ঠিক প্রথম কামান নিক্ষেপের আগেই, যখন তিনজন বিশ্বনেতা একসাথে কুচকাওয়াজ পর্যবেক্ষণ করতে অগ্রসর হন। রাজনৈতিকভাবে এই দৃশ্যটিই ছিল দিনের সবচেয়ে প্রতীকী এবং তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।

এই ব্যতিক্রমধর্মী দৃশ্য, যেখানে শি, কিম ও পুতিন একসঙ্গে জনসম্মুখে হাজির হন, সেটি বৈশ্বিক নজর কাড়ে — বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিও আকর্ষণ করে বলে মনে করা হয়। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের আগে তিন নেতার উপস্থিতি একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়: চীন এখন শুধু ইতিহাস উদযাপন করছে না, বরং নিজের ভবিষ্যত ভূমিকাও নির্ধারণ করছে।

তিয়ানানমেন স্কোয়ারে আয়োজিত এই বিশাল কুচকাওয়াজ ছিল নিখুঁত পরিকল্পনার এক অনন্য উদাহরণ। সেখানে ৫০,০০০ দর্শক, নিখুঁত সুরে গাওয়া দেশপ্রেমমূলক সংগীত, নিখুঁত পদক্ষেপে সামরিক বাহিনীর পদচারণা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনী — সব মিলিয়ে এটি চীন তার আধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের এক বলিষ্ঠ উপস্থাপনা করেছে।

এই কুচকাওয়াজে শুধু সাধারণ অস্ত্র নয়, উপস্থাপিত হয় রোবোটিক নেকড়ে, উন্নত লেজার সিস্টেম, এবং নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM)। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দেখে দর্শকদের মোবাইল ক্যামেরা যেন একযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় অনুষ্ঠান, এরপর হাজার হাজার ঘুঘু ও বেলুন ছেড়ে দেওয়া হয় আকাশে — যা ছিল আরেকটি চিত্রময় মুহূর্ত।

এই বিশাল আয়োজনটি শুধুই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন নয়, এটি চীনের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও আগামীর কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতীক। শি জিনপিং তার অবস্থান থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছেন যে, তিনি প্রস্তুত বিশ্বের সবচেয়ে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুই নেতার পাশে দাঁড়াতে — এবং তার নেতৃত্বে গঠিত সামরিক শক্তি এখন পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে তৈরি।

চীন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এই দৃশ্য ইতিহাসে স্থান পাবে — কারণ এটি ছিল প্রতীক, কৌশল এবং নেতৃত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

XI: বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়া উচিত নয়

শি আরও বলেন যে, বিশ্বকে “কখনও জঙ্গলের আইনে ফিরে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের শিকার করে।” মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন।

যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট পশ্চিমা দেশের নাম উল্লেখ করেননি, চীনা নেতারা অতীতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “গুন্ডা” বলে অভিহিত করেছেন।

শি চিনফিং: “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে সমস্ত দেশ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে, শান্তিকে মূল্য দেবে এবং মানবতার জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরি করতে একসাথে কাজ করবে”। সবশেষে, তিনি “সমস্ত মানবতার জন্য সাধারণ সমৃদ্ধির” ধারণার প্রতি এক গ্লাস তুলে ধরেন।

আরও খবর

“বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি নিষিদ্ধ করার পর ভারত পোশাক ঘাটতির সম্মুখীন”

ভারতীয় ফ্যাশন বাজারে পোশাক ঘাটতি

দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের সুপরিচিত ফ্যাশন ব্যবসায়ীরা মজুদের ঘাটতিতে পড়েছে। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, এইচএন্ডএম, জুডিও ও লাইফস্টাইলসহ একাধিক ব্র্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমদানি নিষেধাজ্ঞার সরকারি সিদ্ধান্ত

১৭ মে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বর্তমানে কেবল কলকাতা ও নহাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে সীমিত আমদানি অনুমোদিত, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বাধা তৈরি করছে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব ও বিকল্প উৎপাদন

এই পরিবর্তনের ফলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ বিলম্ব হচ্ছে সস্তা পণ্যের সরবরাহে। ফলে লাইফস্টাইল, রিলায়েন্স ও আদিত্য বিড়লা নিজেদের কিছু পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন শুরু করেছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া ও বাজারে প্রভাব

লাইফস্টাইল ইন্টারন্যাশনালের সিইও দেবরাজন আইয়ার বলেছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ালেও বাংলাদেশ থেকে আসা কিছু পণ্যে বিলম্ব হচ্ছে। ছোট ব্যবসা ও ধূসর বাজারে সক্রিয় ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

পরিবহন ব্যয় ও বাজার খরচ বৃদ্ধি

সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশি পোশাক আমদানির খরচ ৩%–৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির উপদেষ্টা রাহুল মেহতা মনে করেন, এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

আমদানির প্রবণতা ও পরিসংখ্যান

টিটি ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি সঞ্জয় জৈন বলেন, বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির হার প্রতি বছর প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাংশ কমেছে। তথাপি ২০২4 সালের জানুয়ারি–জুনে ভারত বাংলাদেশ থেকে ২৫৪.৪৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক কিনেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৫% বেশি।

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। তিয়ানআনমেন স্কয়ারে আয়োজিত এ মহড়া ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। অন্যদিকে, এতে চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে বিশ্বকে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।


শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বকে বার্তা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই মহড়ায় চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নেতারা একসাথে উপস্থিত থেকে শক্তির ঐক্য প্রদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক প্রদর্শনী নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে কৌশলগত বার্তাও বহন করে।

আরও পড়ুন: শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ: বেইজিংয়ে শক্তির ঐক্য

সামরিক কুচকাওয়াজে শক্তি প্রদর্শন

শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ ছিল চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রদর্শনী। সেখানে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, স্টেলথ ফাইটার জেট, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সব অস্ত্র উন্মোচন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উদ্দেশ্যে কড়া সতর্ক বার্তা দিয়েছে।


কিম জং উনের বিরল উপস্থিতি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন খুব কম বিদেশ সফর করেন। তবে এইবার শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে তার উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। কুচকাওয়াজে কিমের কন্যা কিম জু-এ-ও উপস্থিত ছিলেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়।


বৈশ্বিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শি জিনপিং পুতিন কিম সামরিক কুচকাওয়াজ পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে নতুন এক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান