শি জিনপিং কাকে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?

আমরা যেমনটি রিপোর্ট করছি, আজ প্রথমবারের মতো চীনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন জনসমক্ষে মিলিত হয়েছেন।

রাশিয়ান এবং উত্তর কোরিয়ার নেতারা চীনের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বেইজিং কুচকাওয়াজে আমন্ত্রিত ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে যোগ দিয়েছেন।

চীনের রাজধানীতে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং বেলারুশের আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও দেখা গেছে, যারা তাদের ভ্রমণের সময় পুতিনের সাথে করমর্দনের সুযোগ নিয়েছেন।

উপস্থিত অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে রয়েছেন:

আরও খবর

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সহযোগিতা জোরদার হয়েছে – কিম

কিম পুতিনকে বলেন যে ২০২৪ সালের জুনের চুক্তির অধীনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে, যেখানে তারা “আগ্রাসন” এর বিরুদ্ধে পারস্পরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

গত বছর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা। সেই সময়ে, কিম এই চুক্তিকে “এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে।

আজকের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত হওয়া উচিত। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা এখন শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও প্রসারিত হওয়ার পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা যে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, তা এই সাম্প্রতিক বৈঠক এবং নেতাদের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।

কিম পুতিনকে বললেন রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য’

রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য — এই বার্তাই তুলে ধরেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, কিম ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং সম্মুখ সারিতে রাশিয়ান সেনাদের পাশে দাঁড়ানোয় উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বিশেষভাবে, তিনি রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলের “মুক্তি” তুলে ধরেন, যা দুই দেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে কিম বলেন, রাশিয়াকে সাহায্য করা উত্তর কোরিয়ার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য, এবং তার দেশ এই দায়িত্ব আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে পালন করছে।

এই মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয় — এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ, এবং সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও প্রসারিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিমের এই বক্তব্য মস্কো-পিয়ংইয়াং জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করছে। এটি বোঝাচ্ছে যে, শুধু প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও দুই দেশ একে অপরকে কৌশলগতভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

পুতিন-কিম বৈঠক শুরু

পুতিন-কিম বৈঠক ঘিরে শুরুতেই উঠে এসেছে মতভেদের ইঙ্গিত, যা রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সম্পর্ককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতার মন্তব্যে কিছু ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে জানিয়েছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল “মুক্ত” করতে সাহায্য করেছে এবং সেই অঞ্চলে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

পুতিন বলেছেন, এই অংশগ্রহণ ছিল “নব্য-নাৎসিবাদ”-এর বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের অংশ। কিম জং উন যদিও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তবে তাস জানায় যে তিনি রাশিয়ার ভূমিকাকে ঘিরে কিছু মন্তব্যে দ্ব্যর্থতা প্রকাশ করেছেন, যা এই উচ্চ পর্যায়ের পুতিন-কিম বৈঠককে ঘিরে নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে, তবে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।